Blog Content

/ /

কাদের ক্ষেত্রে কাউন্সেলিং ও সাইকোথেরাপি কাজ করবে না?

মানসিক সমস্যা সমাধানের অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি হলো কাউন্সেলিং ও সাইকোথেরাপি। তবে, প্রতিটি চিকিৎসা পদ্ধতির মতোই সাইকোথেরাপিও সবসময় সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর নয়। কিছু নির্দিষ্ট শর্ত বা পরিস্থিতিতে এই চিকিৎসা পদ্ধতি সফল হয় না। আমি আলোচনা করব এমন ৪টি প্রধান কারণ নিয়ে যেগুলো কাউন্সেলিং ও সাইকোথেরাপিকে ব্যর্থ করে দিতে পারে।

১) রোগের ধরন একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। মানসিক সমস্যাকে মূলত দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। নিউরোটিক ডিসঅর্ডার এবং সাইকোটিক ডিসঅর্ডার।

নিউরোটিক ডিসঅর্ডার হলো এমন মানসিক সমস্যা, যেখানে রোগী নিজের সমস্যার বিষয়টি বুঝতে পারে এবং উপলব্ধি করতে পারে যে তার সাহায্য দরকার। সে জানে যে তার মধ্যে কিছু মানসিক উপসর্গ আছে এবং তা কষ্ট দিচ্ছে।

সাইকোটিক ডিসঅর্ডার হলো এমন মানসিক সমস্যা, যেখানে রোগী বুঝতেই পারে না যে সে অসুস্থ। তার বাস্তবতা বোঝার ক্ষমতা কমে যায়। অনেক সময় সে এমন কিছু দেখে, শোনে বা বিশ্বাস করে—যা বাস্তবে নেই। যেমন: স্কিজোফ্রেনিয়া বা বাইপোলার ডিসঅর্ডারের ম্যানিক পর্বে এই ধরণের সমস্যা দেখা যায়। এই অবস্থায় রোগীর হ্যালুসিনেশন (অবাস্তব কিছু দেখা বা শোনা) বা ডেলিউশন (অবাস্তব বিশ্বাস) থাকতে পারে।

সাইকোটিক ডিসঅর্ডারের ক্ষেত্রে এবং যাদের হ্যালুসিনেশন বা ডেলিউশন থাকে, তাদের ক্ষেত্রে শুরুতেই সাইকোথেরাপি কার্যকর হয় না। এই অবস্থায় ওষুধ বা মেডিকেশনই প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে বিবেচিত হয়।

এছাড়াও, যদি কোনো শারীরিক সমস্যার কারণে মানসিক সমস্যা সৃষ্টি হয়, তবে আগে সেই শারীরিক সমস্যার চিকিৎসা জরুরি। এ ধরনের পরিস্থিতিতেও সাইকোথেরাপি প্রথমে কাজ করে না।

২) সাইকোথেরাপি কাজ না করার দ্বিতীয় কারণটি হলো রোগীর মানসিকতা ও রোগী সহযোগিতার না করা।

যদি একজন রোগী মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিতে ইচ্ছুক না হন, তাহলে সাইকোথেরাপি কার্যকর হবে না। এছাড়াও থেরাপিতে অনিয়মিত উপস্থিতি বা মাঝপথে থেরাপি বন্ধ করে দিলে, অবাস্তব প্রত্যাশা রাখলে (যেমন: প্রথম সেশনেই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাওয়া), এবং থেরাপি প্রক্রিয়ায় থেরাপিস্ট বা সাইকোলজিস্টদের সাথে মিথ্যা বলা, সহযোগিতা না করা, অথবা নিজের সমস্যাগুলো লুকালে সাইকোথেরাপি কাজ করবে না ।

৩)সাইকোথেরাপি কাজ না করার তৃতীয় কারণটি হলো অনুপযুক্ত থেরাপির পরিবেশ।

থেরাপির জন্য একটি নিরাপদ, আস্থাপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক পরিবেশ অপরিহার্য। যদি থেরাপিস্ট ও রোগীর মধ্যে ভাষাগত বা সাংস্কৃতিক বাধা থাকে, তাহলে কার্যকর যোগাযোগ গড়ে ওঠে না। যেমন—একজন রোহিঙ্গা শরণার্থী যদি বাংলা না বোঝেন, তাহলে স্থানীয় কাউন্সেলরের সাথে তার সঠিকভাবে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব নয়। এছাড়াও, যদি থেরাপিস্ট পেশাদারিত্ব বজায় না রাখেন বা রোগীর সমস্যাকে গুরুত্ব না দেন, তাহলেও চিকিৎসা বিফল হয়। থেরাপি রুমে যদি গোপনীয়তা ও শান্ত না থাকে, তাহলে রোগী খোলামেলা কথা বলতে সংকোচ বোধ করেন, যা পুরো প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে।

৪) সাইকোথেরাপি কাজ না করার চতুর্থ কারণটি হলো পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা।

পরিবার ও সমাজের সমর্থন ছাড়া সাইকোথেরাপি অনেক সময়ই অকার্যকর হয়ে পড়ে। অনেক পরিবারে মানসিক রোগকে এখনও কলঙ্ক হিসেবে দেখা হয় এবং রোগীকে থেরাপি নিতে নিরুৎসাহিত করা হয়। যেমন—একজন মেয়ে কনভার্সন ডিসঅর্ডার-এ ভুগে কিন্তু তার পরিবার মনে করেন যে এটি জিন-ভূতের আছর, তাহলে তারা তাকে ওঝার কাছে নিয়ে যাবেন, সাইকোলজিস্টের কাছে নয়। আবার সমাজে যদি অস্থিরতা, দারিদ্র্য বা নিরাপত্তাহীনতা থাকে, তাহলেও মানসিক চিকিৎসা সঠিকভাবে কাজ করে না। অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা সামাজিক ভয় বা লজ্জায় থেরাপি নিতে চান না, যা তাদের সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে।

✒️ Md. Rabbi Howlader

Clinical and Counseling Psychologist, Mindful Insights

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *